মঙ্গলবার, ১৬ Jun ২০২৬, ০৮:১০ পূর্বাহ্ন
সংরক্ষিত নারী আসনে বগুড়ার রাজনীতিতে আলোচিত নিহার সুলতানা তিথি ডেস্ক সংবাদ.
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে বগুড়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা, বিশ্লেষণ ও সমীকরণ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন মহলে সম্ভাব্য নারী সংসদ সদস্য হিসেবে সাবেক ছাত্রনেত্রী মোছাঃ নিহার সুলতানা তিথির নাম গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ের কর্মী থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ের নেতৃত্ব পর্যন্ত অনেকেই তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকে মূল্যায়ন করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ের রাজনীতিতে ধারাবাহিক সক্রিয়তা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তিনি সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় একটি উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজ ছাত্র সংসদের জেনারেল সেক্রেটারি (জিএস) ও ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া আদায়, একাডেমিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে নেতৃত্বদান এবং সংগঠনকে গতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
সেই সময় থেকেই তার নেতৃত্বগুণ ও সাংগঠনিক সক্ষমতা স্থানীয় রাজনীতিতে ইতিবাচকভাবে আলোচিত হতে শুরু করে। পরবর্তীতে জাতীয়তাবাদী ধারার রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে তিনি বগুড়া জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে টানা দুই দফায় দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বে জেলা পর্যায়ে নারী সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করা, নতুন প্রজন্মের নারী কর্মী তৈরি, রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা এবং বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
দলীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, তার সময়কালে মহিলা দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসে এবং তৃণমূল পর্যায়ে নারী নেতৃত্বের বিস্তার ঘটে। এছাড়া জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি জেলা রাজনীতিতে সমন্বয়ধর্মী নেতৃত্বের পরিচয় দেন। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম, সভা-সমাবেশ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ তাকে একটি গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বে পরিণত করেছে বলে স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় তার সক্রিয় উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। গণসংযোগ, উঠান বৈঠক, নারী ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং ঘরে ঘরে গিয়ে প্রচারণা চালানোর মাধ্যমে তিনি নির্বাচনী কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে তার উদ্যোগ দলীয় মহলে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়িত হয়েছে। রাজনৈতিক আদর্শের ক্ষেত্রে তিনি জিয়াউর রহমান-এর জাতীয়তাবাদী দর্শন দ্বারা অনুপ্রাণিত। পাশাপাশি খালেদা জিয়া-এর নেতৃত্বে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
বর্তমানে তারেক রহমান-এর দিকনির্দেশনায় দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় ভূমিকা রাখছেন। সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না এলেও বগুড়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে তাকে ঘিরে আলোচনা ক্রমশ জোরদার হচ্ছে। তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী মনে করছেন, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অবদান, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের দক্ষতা এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি মনোনয়নের দাবিদার।
তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে—এমনটিই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সব মিলিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনকে কেন্দ্র করে বগুড়ার রাজনীতিতে যে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে, সেখানে নিহার সুলতানা তিথির নাম একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। এখন দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রাজনৈতিক অঙ্গন।